নিদারুন মানসিক যন্ত্রনার মধ্যে হঠাৎ করিয়া মনে হইল ভোর হইতেছে। আমি বহু বছরের অন্ধত্ব হইতে মুক্তি পাইতে চলিয়াছি। মনে হইতে ছিল বিভিষিকাময় ঝড়ে যে বৃক্ষের শেকড় উপড়াইয়া পড়িবার জোগাড় হইয়া ছিল কেহ যেন তার কান্ড ধরিয়া দাড় করাইবার প্রানপন চেষ্টা করিতেছে। সময়ের সাথে সাথে বুঝিতে পারিলাম যে পাশে আসিয়া দাড়াইল সে ও বহু ঝড় ঝাপটা অতিক্রম করিয়া আমারই মত তীরে ভিড়িতে চাহিতেছে। মনে মনে আহ্লাদ হইল । এইবার বুঝি দুই দুঃ...খ মিলিয়া একটা কিছু রচনা হইবে। কিন্তু সময় বড় অদ্ভুত আর তাহার চাইতেও বেশী অস্হির। হঠাৎ চোখ মেলিয়া দেখি সূর্য ওঠে নাই।আমিই হয়ত উওর গোলার্ধের সর্বোচ্চ অক্ষাংশে বসিয়া আছি। এখানে সূর্যের আলো পৌছাইবার নিয়ম নাই। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে আমার প্রান স্যাতস্যাতে হইয়া গেছে। আর আমি বসিয়া আছি এক হাহাকার বুকে চাপিয়া ধরিয়া। আর যে পাশে আসিয়া ক্ষনিকের তরে বসিয়াছিল সে খুব সন্তপর্নে হাত ছাড়িয়া উঠিয়া গেল। কেনই বা আসিল কেন বা চলিয়া গেল বুঝিলাম না। শুধু বাতাসে ফিসফিসানি শুনিতে পাই স্যতস্যাতে জীবন ধরিয়া রাখিয়া কি লাভ। তাহার চাইতে বরং মুক্ত হইয়া যা, উওর মেরু হইতে নামিয়া আসিয়া মাটির সঙ্গে মিশিয়া যা। পরজন্ম বলিয়া যদি কিছু থাকে তো ফিরিয়া আসিস নইলে বৃক্ষ হইয়া জন্ম লাভ করিস। বৃক্ষ খুব ভালবাসিতে জানে। তুইও আশ মিটাইয়া ভালবাসিতে পারিবি। তখন হয়ত ক্ষনিকের তরে যে আসিয়াছিল সে আর ভালবাসার অভাব বোধ করিয়া ফিরিয়া যাইবে না। বরং হয়ত পাখী হইয়া তোরই বুকে কুঠির বাধিবে। বাতাসের ফিসফিসানি শুনিয়া আমার গায়ের রোম খাড়া হইয়া যায়। নিজেকে পাগল পাগল লাগে। মনে হয় একটা মানব জন্ম ভালবাসার জন্য নষ্ট করিয়া ফালাইলাম। কিন্তু সে অধিকা কি আমার আছে? বাচঁতে ইচ্ছা করে, মনে হয় বৈরাগ্য গ্রহন করি। সংসারে যখন টিকতে পারিলাম না, যাই অ-সংসারে যাইয়া দেখি। যদি সিদ্ধি মেলে। যদি মেলে তো মুক্তি পাইয়া গেলাম আর যদি না মেলে তো ফের বাতাসের সাথে কানাঘুষা করিয়া একটাকিছু সিদ্ধান্ত লইয়া লইব.......
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন