ভায়লিনের দ্বিতীয় ক্লাস। রূদ্র নামের মহিমা রক্ষা করতে আমি নিয়ম মাফিক আধা ঘন্টা লেট। মানুষ নাকি মরেও বদলায় না। আমিও তাদের দলে। তখন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি। প্রিয় একজন গনিত শিক্ষক, নাম তোফায়েল। পুরো নাম মনে নেই। আমরা অনেক সময়ই আমাদের আশেপাশের মানুষগুলো সম্পর্কে যতটুকু না জানলে চলে না ততটুকুই জানি। যেমন ধরুন আপনার পাশের বেঞ্জে যে ক্লাস করে আপনি কি জানেন তার কয় ভাই বোন? আমি নিজের কথা বলতে পারি, আমি জানি না।... তো তোফায়েল স্যারের ডেঙ্গু হল। তখন ডেঙ্গু প্রথম প্রথম দেখা দিচ্ছে। ধরা পড়া মানেই কাজ হয়েছে। সকালে আমার বেঞ্জ পার্টনার ফোন দিল। বললো -চল স্যারকে দেখে আসি। আমি রাত চারটায় ঘুমিয়েছি ফোন করায় একটু বিরক্ত। তবে ফোন করার কারন শুনে একটু নরম হলাম। কিন্তু ঘুম নরম হল না আরও শক্ত করে চেপে ধরলো। বন্ধুকে বললাম কাল যাব। পরের দিন দুপুর বারটায় আবার ফোন পেলাম। বন্ধুটির কন্ঠে উৎকন্ঠা-তাড়াতাড়ি স্কুলে আয়। আমার কেনর উওর এল- স্যার ৮টার দিকে মারা গেছেন। তাকে স্কুল মাঠে আনা হবে যে কোন সময়। আমি ফোন নামিয়ে রেখে থম মেরে বসে রইলাম। স্যারকে আর বলা হলনা-স্যার গনিত আমার সবচাইতে প্রিয় সাবজেক্ট আর আপনি অসম্ভব ভাল একজন মানুষ। স্যারকে স্কুলের মাঠে দেখলাম। নিজের মধ্যে অপরাধ বোধ হচ্ছিল। এমন সময় বন্ধুটি মুখ কালো করে আমার পাশে এে বললো- কাল যাবি না স্যারকে দেখতে। আমার দেরি হয়ে যায় সবকিছুতেই আমার বড্ড দেরী হয়ে যায়। ও আচ্ছা ভায়লিনের দ্বিতীয় ক্লাসের কথা বলছিলাম সেটা আর একদিন বলবো। তোফায়েল স্যার আমি এখন আর অংক করি না। বসে বসে জীবনের ধাধা মেলাই। আর যখন কিছুই মেলে না তখন আপনাকে খুব মনে পরে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন