একটা দীর্ঘ দীর্ঘ সময় অবহেলায় কাটানোর পর ধীরে ধীরে আমার মধ্যে হীনমন্যতা বাসা বাধতে শুরু করল। কনফিডেন্স নামক যে বস্তুটি আছে সেটা মাইনাসের দিকে চলছে শুরু করল। আমি বুঝতে পারছি কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়। কিন্তু আমার নিজস্ব মতামত ততদিনে গলা টিপে হত্যা করা হয়ে গেছে। মাঝেমাঝে ভাবতাম আমি হয়ত মানুষ নই। আমার চারপাশে একটা শামুকের খোল তৈরী হল। আর আমি হলাম শামুক মানব। সমাজ সংসার থেকে নিজেকে লুকিয়ে আমার বসবাস শুরু হল সেই খোলের মধ্যে। যেকোন ব্যাপারেই আমি আমার মতামত প্রকাশ করছি, ভালবাসছি, দুঃখ করছি, একাকীত্বের যন্ত্রনা সহ্য করছি, সবই করছি। কিন্তু সে শব্দ কারো কাছে পৌছায় না। কারন এর সবই হচ্ছে শামুকের খোলের মধ্যে। একটা দীর্ঘ মানুষিক আর শারীরিক যুদ্ধের পর আমার খোলসটা ভাঙ্গতে শুরু করেছে। এখনও কাজ চলছে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। অবহেলা বড় ভয়ংকর জিনিস। আপনি যখন এর শিকার হবেন তখন আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশ ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই কারও অবহেলা অতি সাবধানে এরিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তাকে আঘাত করার প্রয়োজন নাই, জোর করে নিজেকে জাহির করার ও দরকার নাই। কিন্তু আপনি আপনার কৃতকর্মের জন্যই যে অবহেলার শিকার সে চিন্তা কখনোই মাথায় আনবেন না। আর আপনি যখন অবহেলা করার মত অবস্হানে থাকবেন, তখন কাউকে অবহেলা করার আগে নিজেকে একবার তার অবস্হানে দাড় করিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে বাবা মা কখনোই আপনার সন্তানের চিন্তা চেতনাকে অবহেলা করবেন না। এতে তার যুদ্ধ করে বেচেঁ থাকার শক্তি হ্রাস পায়। সে অল্পতেই ভেঙ্গে পরে। বেশী আবেগী হয়ে ওঠে। সবসময় তার মনে হয় তাকে কেউ ভালবাসে না। মানুষ তার এই দূর্বলতার সুযোগ নেয় এবং সে বারবার প্রতারিত হয়। এমন নয় যে, সে বুঝতে পারে না যে তাকে প্রতারিত করা হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্ব, স্নেহ পাওয়াটাই তার কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। এবং পরে আরও বেশী কষ্ট পায়। এটা রূদ্রর নিজের জীবনের থেকে নেয়া শিক্ষা। উফফ মনে হচ্ছে সাইকোলজি ক্লাসে লেকচার দিচ্ছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন