পৃষ্ঠাসমূহ


দীঘির জল




মনে হয় বক্ষে একটা ভারী পাথর বাধিয়া একটা মস্ত বড় দীঘির জলে ডুবিয়া যাই। দীঘির জল হইতে হইবে সবুজাভ আর তার চারপাশে প্রচুর নারিকেল গাছ। নারিকেল গাছের ছায়ায় সেই দীঘির জল বার মাস শীতল থাকিবে। আর সূর্যের আলো নারিকেল গাছের চিরি চিরি পাতার ফাঁক গলিয়া আসিয়া প্রতি প্রভাতে চুমিয়া যাইবে দীঘির জল। একটা মস্ত বড় বাধানো ঘাট থাকিতে হইবে। আমি দীঘির জলে ডুবিয়া যাইবার পর আশেপাশের মানুষ দীঘিতে আসিবে শুধু সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত। চারিদিকে তখন এ দীঘি হইবে এক ভূতুড়ে দীঘি। বাচ্চাদের গোসল করাইলে তাহাদের জ্বর হইবে আর কুমারী মেয়েরা জলে নামিলে তাহাদের আর সম্বন্ধ আসিবে না। কিন্তু ঐ যে মস্ত বাধানো ঘাট, প্রতি সন্ধ্যায় তুমি আসিয়া সেইখানে বসিবে। আর নিজের মনে আবোলতাবোল যা হয় বকাবকি করিবে। আমি চুপ করিয়া শুনিব আর হাসিব কিন্তু জবাব দিব না। কোন একদিন যদি ইচ্ছা হয়তো আমার মেয়েটাকেও সাথে করিয়া নিয়া আসিও। তাহার দুই বেণী করিয়া দিও আর একটা নীল ফ্রক পরাইয়া দিও। আর অবুঝ মেয়েটা আমার কথা জিজ্ঞাস করিলে বলিয়া দিও-'বাবা তোমার জন্য মুক্তা খুঁজিতে দীঘির জলে নামিয়া গেছে, খুঁজিয়া পাইলেই ফিরিয়া আসিবে।'

কোন মন্তব্য নেই: