পৃষ্ঠাসমূহ


সাইকেল

ঢাকায় হঠাৎ করে সাইকেলের খুব চল দ্যাখা যাচ্ছে। বেশীর ভাগই অল্প বয়সী স্কুলগামী, অসংখ্য তরুনও আছে। ফেসবুকে পেজও দেখলাম। দল বেধেঁ চলছেন অনেকে। ক্লাব হচ্ছে। ব্যাপারটা দেখতে খুব ভাল লাগে। তার কারন হচ্ছে আমিসহ অনেকেই সময় অসময়ে হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেও এই সব সাইকেল আরোহী অনেকেই দিব্যি হেলমেট পড়ছেন, এমনকি অনেকে knee guard, elbow guard ও ব্যাবহার করছেন। হয়ত স্টাইলের জন্য তবে মোদ্দা কথা পড়ছেন এবং দেখতেও ভাল লাগে। তো সাইকেল ভাইরাস আমার বাসায় ও লাগলো। ছোট ভাই দুটির আবদার আমার কাছেই বেশী থাকে। সাইকেল কিনতে গেলাম বংশালে। শুনে আশ্চর্য হলাম ৬০/৭০ হাজার টাকার সাইকেলও দেশে তৈরী হচ্ছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানীও হচ্ছে। শুনে গর্ব হল নিজেকে নিয়ে, দেশকে নিয়ে। যাই হোক সাইকেল কেনা হল। আমিও দোকানে যেতে হলে মাঝেমাঝে হুটহাট সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যাই। যতবার সাইকেলে উঠি আমার নিজের সাইকেল চালানো শেখার কথা মনে পড়ে যায়। আমার বাসায় একটা সুনাম আছে ছোটবেলা থেকে। আমি কারও কাছে কিছু আবদার করি না। আসলে নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন পরিবেশে আবদার মানে অত্যাচার। ছোট্ট আমি কিভাবে যেন সেটা বুঝে গিয়েছিলাম। বাসার কারও কাছে কখনো মুখ ফুটে কিছু চাওয়া হয়নি। অভ্যাসটা এখনও আছে। কারও কাছেই মুখ ফুটে বলতে ইচ্ছা করে না এটা দাও, ওটা চাই। কেউ যদি আমাকে বুঝে নিজেই এগিয়ে আসে তখন আমি খুশিতে এ্যাবনরমাল হয়ে যাই। তো আমাদের দোতালায় যে ফ্যামিলিটা থাকতো ওরা ছিল দুই বোন এক ভাই। এক ভাই এক বোন আমার থেকে বড় আর এক বোন ছোট। সহানুভূতি হোক আর আদর নামটা যাই হোক আমার কখনো অভাব হয়নি ছেলেবেলায়। তো ছোট বোনটার একটা সাইকেল ছিল। আমি ওর কাছ থেকে সাইকেল শিখতাম। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে দেখতাম ও সাইকেল চালাচ্ছে। আমি চালাতে চাইলে দিত তবে শর্ত হচ্ছে ওকে কমিক বই এনে দিতে হবে। বই না থাকলে no সাইকেল। তখন চাচ চৌধুরী পিংকী কঁচি কাঁচার নেশার বস্তু। এক পিস ১৫ টাকা। টাকাতো নেই। স্কুলে অন্যরা তখন এ ওর সাথে অদল বদল করে কমিক পড়ে। আমার কাছে বই নেই তাই অদল বদলের সুযোগ নেই। তবে কেন যেন অনেকেই বই দিত পড়তে। আমি সেই বই দিতাম মেয়েটাকে। তো সব দিন বই আনতে পারতাম না আর সবদিন শেখা ও হত না। আবার মাঝে মাঝে ও নিজে থেকেই দিত। বই নেই বললে বলতো লাগবে না। আসলে মায়ের জাত তো কতক্ষন আর নির্দয় হয়ে থাকবে। কিন্তু যার জন্য সাইকেল চালানো শিখলাম তার নাম আজ আর মনে নেই। ও দুই বেনী করত আর ফ্রক পরতো। এক সময় আমাদের বাসা বদল হল। আজ ওরা কোথায় জানি না। তবে সাইকেলে চড়লেই আমার সেই সময়ের কথা মনে হয়। হয়ত এটাও একধরনের প্রেম যার মূল চরিত্র সাইকেল আর কমিক বুক। তখন চাওয়া পাওয়া গুলো ক্ষুদ্র ছিল, সহজেই হিসেব মিলে যেত। যতদিন যায় কোন সম্পর্কের হিসেব আর মেলে না। যোগ করতে যেয়ে বিয়োগ করে ফেলি, বিয়োগ করতে যেয়ে ভাগ, হাতে কত ধরা ছিল ভুলে যাই। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারি অতীতের সব কষ্ট, সব সময় কষ্ট দেয় না, কিছু কষ্টকে মনে করতেও মাঝে মাঝে ভাল লাগে।

কোন মন্তব্য নেই: