পৃষ্ঠাসমূহ


নিঃস্প্রানকে কেউ যোগায় না সঞ্জিবনী

লন্ডভন্ড করে দিতে মন চায় সব ধ্বংস
সব ধ্বংস করার ক্ষমতা নাই
তাই রোজ নিজেকে পোড়াই
সবইতো বাল ছাল ছাই ভস্ম
তুমি আর কি করবে
গঙ্গায় ভাসিয়ে দাও
তারপর চলে যাও চলে যাও
দূর দূর বহুদূর
পিছন ফিরে তাকিও না আর
আমিও ভেসে ভেসে
যাব কত দূর কোন সে কূলের ঠীকানায়
কোন সে শশ্মানের ঘাটে
সে আমিও জানি না
শুধু এতটুকু জেনে গেছি
নিঃস্প্রানকে কেউ যোগায় না সঞ্জিবনী

দূরত্ব

দূরত্ব জিনিসটা বড় অদ্ভুত, অজান্তেই হঠাৎ করে তৈরী হয়ে যায় যোজন যোজন দূরত্ব। আর সবচাইতে খারাপ ব্যাপার হচ্ছে একটা সময় অনেক চেষ্টা করেও সেই দূরত্ব আর অতিক্রম করা যায় না। স্কুল জীবনের অনেক বন্ধুর সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা হলে অদ্ভুত লাগে। মনে করতে পারি না ওকে তুই বলতাম না তুমি বলতাম। দূরত্ব জিনিসটাকেই হয়ত আমি সবচাইতে বেশী ভয় পাই। কখন কিভাবে সম্পর্গুলো ধ্বংস করে দেয় টেরও পাওয়া যায় না। হঠাৎ করে অনেক অনেক দিন পরে বোঝা যায় বুকের মধ্যে দূরত্ব তার ধ্বংসযঙ্ঘ চালিয়ে একটা শূন্যতার ক্ষত তৈরী করে ফেলেছে আর সে শূন্যতা কখনো পূর্ন হবার নয়-রুদ্র অনির্বান

এত কিছু চাইনি আমি

এত কিছু চাইনি আমি
চেয়ে ছিলাম আরও কিছু কম
একখানা দরজা আর
একটুখানি নিকনো উঠোন
 লাল বৌয়ের চোখের মায়া
 মায়ের আচলের একটু ছায়া
 ঘামে ভেজা শরীরে
 ঠাণ্ডা দীঘির জল
 ভাতের পাতে দু'টো কাচা মরিচ
 আর একটু খানি ঝোল
 এত কিছু চাইনি আমি
 চেয়ে ছিলাম আরও কিছু কম
 ঘরে ফেরার দেরিতে
তোমার উদ্বিগ্ন দৃষ্টি
 আর বাবার আদরের বকুনি
 ভাইগুলোর আবদারের জালাতন
 এত কিছু চাইনি আমি
 চেয়ে ছিলাম আরও কিছু কম
 তোমার আমার ভালবাসার
 একখানা ছোট সংসার

এক ফালি চাঁদ

অতঃপর পৃথিবীর পরে নেমে আসে
একাদশীর আধখানা চাঁদ
জ্যোৎস্না ছড়িয়ে দিয়ে
চেয়ে থাকে টলটলা পুকুরের জলে
পায়রার বকবকুম স্বরে
খসে যায় অভিমানী তারাগুলো
আকাশের বুকে জেগে রয়
খালি এক ফালি চাঁদ
বাতাসে ঝরে যাওয়া আমের বোলের
বেদনা বুকে নিয়ে চেয়ে রয় নীরবে
পথিক ধীরে এসে বসে ধানের শিষের পাশে
বুকে তার পথ হারাবার ব্যথা নিয়ে
চেয়ে রয় আকাশের পানে
এক ফালি চাঁদ বুকে জড়িয়ে নেয়
পথিকের বেদনার জল মুছে দিয়ে
বাতলে দেয় নতুন পথের সন্ধান
ক্লান্ত পথিক উঠে দাড়ায় ধীর পায়ে
চাঁদের আলোয় খুঁজে নেয় আপন ছায়া সঙ্গীরে
অতঃপর এক ফালি চাঁদ হারায় অজানায়
পৃথিবী কভু তারে খুঁজে পায় নাকো আর

ভাঙ্গা সংসার

যখন গিয়েছি চলে
নিস্তব্ধতা আর চাতকের ব্যথা নিয়ে
ভাঙ্গা উঠান, ভাঙ্গা সংসার ফেলে
বহু বছরের তরে একে অপরকে ছেড়ে
মলিন মুখ, ঠাণ্ডা হৄদয়
সত্যিই সেই সময় বিষাদ ছুঁয়েছে আমায়
সকালের শিশির হয়েছে কান্নার জল
কি যেন হারিয়ে গেল জ্বালিয়ে অনির্বাণ
সব চাওয়া আহত প্রজাপতির ডানা
টিম টিমে আলোয় সারাটা পথ চলা
শুনতে পাই সেই প্রিয় নাম
হাহাকার ওঠা পাতা ঝরা গ্রাম
শুক্লা পক্ষে ফিরে এস প্রিয়
হাজার বছর পরে এই ভাঙ্গা সংসারে
আমরা আবার মিলব নাহয়
মেঘের ওপারে।

বেচে আছি দুঃস্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন সাজিয়ে

কাক ভেজা সকাল, দুপুর, বৃষ্টি ভেজা রাত
পুরনো স্মৃতি কাছে এসে দেয় সাড়া
বেদনা বিধুর বেদনা মধুর
কথা হয় দুজনে পাশে বসে, ভোর হয় রাত
চাদের বুকে এক টুকরো মেঘ এসে
তোর ছবি একে দিয়ে যায় হারিয়ে
চোখের জল শুকিয়ে গেছে
এখন আর কাঁদি না
চাতকের বুকে হাহাকার ওঠে
ফিরে আসবি না?
তৃষ্ণার্ত ক্ষুধার্ত মন বিবাগী হয়ে
বসে বসে কথা হয় প্রতিক্ষণ
বেচে আছি দুঃস্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন সাজিয়ে।

অভিমানী

নীলচে তারার আলোর নীচে
শুয়ে আছি ঘাসের পরে
নক্ষত্রের প্রশ্নের উওর খুঁজি
উড়ে যাওয়া মেঘের দলে
ডাহুক ডাকছে কোন এক বিরহী
সুরে, মনে পরে যায়, মনে পরে যায়
অনেক আগের কথা, ঘরে ফেরা
চেনা মুখ ভালবেসে, কাছে ডাকে আমায়
সেই সব স্মৃতি-গুলো মিশে আছে
গভীর আবেশে এই সব হিজল
তমাল আর বটবৃক্ষের মাঝে
উষ্ণতার দারুণ মুহূর্তে কিছু ছল
কিছু রহস্য উপেক্ষা করে বুকে
টেনে নিয়ে একরাশ বেদনা
জীবন কেটে গেছে আজ বহুদূরে
কিছু কথা আর না বলা কথার দোনোমনা
নিয়ে অভিমানী হয়ে শুয়ে আছি
ঘাসের পরে, সাঁঝের বেলা সন্ধ্যা প্রদীপ
গেলে নিভি, জেগে উঠি পুরনো
প্রণয়ের হাতছানিতে, এই সব ঝরা
পাতা আর পেঁচার রাত জাগা শব্দ
কানে নিয়ে শুয়ে থাকি, অভিমানী ঘাসের পরে
বহু বছর ধরে, শুধু সাঁঝের পরে ফিরে আসি
তোমাদের এই সব ভালবেসে

খামখেয়ালি

আমার দোতলা বাড়ী আর
লাল গাড়ীটার স্বপ্নের কথা
মনে আছে তোর?
আমি গ্যাদা কে সাথে নিয়ে
গাড়ী বারান্দায় গলা-বন্ধনী তে হাসফাস করছি
আর তুই দোতলার বারান্দায়
ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে আছিস
তুই স্বপ্নটা শুনে বলেছিলি
"তোমরা ছেলেদের সবার স্বপ্ন
একরকম হয় কেন?"
আচ্ছা শোন আমি স্বপ্নটা বদলে দিয়েছি
দোতলা বাড়ীর দরকার নেই
আমরা থাকব বনে জঙ্গলে
প্রকৃতি মায়ের কোলে
আর গাড়ীটা বদলে দিয়েছি
ম্যাজিক কার্পেটে, শুধু জিনি টাকেই খুঁজে
পাচ্ছি না, যে তোকে কাঁধে করে আমার
কাছে উড়িয়ে আনবে সে উপায় ও নেই
অসুবিধা নেই, যতদিন গাধাটাকে না
পাচ্ছি তুই সোনার কাঠি রূপার কাঠি
জীয়ন দিয়ে ঘুমিয়ে থাকিস
আর এই ফাকে আমি অসমাপ্ত কাজগুলো
শেষ করে ফেলি
জঙ্গলটাকে সাজাব ১০০৩২৩ কৃষ্ণচূড়া দিয়ে
চাঁদের গলায় একটা দড়ি দিয়ে
বেধে রাখব যেন অমাবস্যায় হারাতে না পারে
আর নদীটা বয়ে যাবে ঠিক জঙ্গলের মাঝ দিয়ে
একে বেকে হাজার শাখা প্রশাখা হয়ে
নদীটাকে বেশী না মাএ ২৩৭ কি.মি. সরিয়ে আনলেই হবে
কিন্তু তোর চিকেন ফ্রাই আর পিৎজজা পাচ্ছি না কোথাও
আচ্ছা থাক দু'জন না হয় ভালবাসার
মৌনতা খাব
মানুষ সবার সামনে হাসে কিন্তু কাঁদে একা বা যাকে সে অনেক ভালবাসে তার সামনে- রুদ্র অনির্বান
রন্দ্রে রন্দ্রে বিষ
অনুতে অনুতে পাপ
একটা জন্ম নষ্ট হল
কিসের নেশায়?

স্কুল শেষ বেজে গেছে ছুটির ঘন্টা

আমি অপেক্ষায় আছি
তুমি কবে আসবে
এ জায়গাটা বসবাসের
অযোগ্য করে ফেলেছি
তুমি কখন হাত ধরবে
... কানে কানে বলবে 'বাড়ী চল'
পৃথিবীতে আমার কোন ঘর নেই
তুমিই বল আমি কোথায় যাব
আমি খরচ করে ফেলেছি সবকটি পয়সা
কি দিয়ে কিনবো নতুন হাস্নাহেনা
আমি কবে যাব আমার ঘরে
স্কুল শেষ বেজে গেছে ছুটির ঘন্টা
হে খোদা তুমি আসবে না
আমাকে সবুজ গালিচার
বাগান বাড়ীতে নিয়ে যেতে
স্কুল শেষ বেজে গেছে ছুটির ঘন্টা
আমাকে হাত ধরে বাড়ী নিয়ে চল
কেউ কাঁদতে শেখায় আর কেউ হাসতে। কেউ দূরে চলে যায় বলেই মানুষ কাঁদতে শেখে। আর কেউ কাছে আসে বলেই মানুষ হাসতে শেখে। যে কাঁদতে শেখায় সে চলে যাবার সময় কান্না সাথে নিয়ে যায় না। কিন্তু যে হাসতে শেখায় সে যাবার সময় হাসিটুকু সাথে নিয়ে চলে যায়

ভীষন বরষায় ভিন্ন দুই কবি

বরফ কুচি বাতাস
বৃষ্টির চাবুক
ছুটে আসা ধূলো বালি বলে গেল
জীবন ছুটতে ভিন্ন কোন পথে
কি চায় বালক? মৃত্যু?
না কি অশৈশব চুরি হয়ে যাওয়া
জীবনকে নিংড়ে চায় অমৃতের প্রসাদ
এসব কিছুতেই যায় আসে না কিছু
হঠাৎ পাওয়া এ কালবৈশাখী ঝড়ে
সে শুধুই একজন কবি
সঙ্গীটি তার প্রিয়তমা নয়
আগামীর স্বপ্নে বিভোর এক ভিন্ন কবি
জীবনকে যে চায় বেধে ফেলতে
রঙ্গীন পর্দার ফ্রেমে
এই ভীষন বরষায় ভিন্ন দুই কবির
সঙ্গী হবার কথা ছিল কোমল কোন উষ্ণতা
কিংবা মুঠোফোনের প্রেমালাপ
কেন হল না? সে ব্যাপারে দুজন কেন উদাসী?
তাদের পাশেপাশে ছুটে চলে নবাগত ভালবাসা
আবৃত স্তনের উষ্ণতা পিঠের আশ্রয়ে
মেয়েটি হাত পেতে তুলে নেয় বৃষ্টির জল
কবি দুজন বুঝে নেয়
এ পথ উষ্ণতার
ভালবাসার বৃষ্টিতে ভেজার
পথ বদলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া ভিন্ন জলের সন্ধানে
ধ্যাত এই ভীষন বরষার রাতে
শূরিখানায় তালা বড্ড বেমানান
অতৃপ্ত দুটি মাতাল জ্বলন্ত সিগারেট হাতে
দাড়িয়ে দাড়িয়ে তৃষ্ণার আগুনে ভেজে

এ প্রভাত আমার নয়

সূর্যস্নানের এসেছে সময়
আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠে কচি সবুজের প্রান
ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে রাতজাগা নিশাচর ঝি ঝি পোকা
কোথাও প্রভাত কোথাও অনন্ত রাত

... রাত ভোর হয় কোথাও গভীর কামনায় ভালবাসা
ভালবাসাও ঘুমায় রাতভর ক্লান্তির শেষে
একটা গালের টোলে হাসে প্রথম প্রভাত
দুটি সুখ খুব কাছাকাছি

চোখের ক্লান্তি নিয়ে আঁকা স্বপ্ন
কত কিছু দেখে আধার ভালবেসে
এ প্রভাত আমার নয়; নয় এ সূর্যস্নান
অভিশপ্ত আধার নিয়ে আকিবুকি

কার্ণিশে কিচিরমিচির চড়ুইয়ের প্রান
অহবান করে নতুন সূর্য কিরণ
ঘাস আর শিশিরের আপাতত দিনভর আড়ি
কথা হবে পরবর্তি সূর্যাস্তে

মাইল হাজার মাইল দূরত্ব
আকাশে ঘেমের ঘনঘটা
বাতাস এসে বলে গেল কারো বুকের শূন্যতা
বৃষ্টি হোক ছুয়ে দেখি কতটা

দূরে দূরে সওদা হয় কাছাকাছি আসার
আকাশের বুকে ভাসে আমার একখন্ড মেঘ
আমার বুকে একটুকরো আকাশ
দুজনের মিলেমিশে শূন্যতা

এ প্রভাত আমার নয়
আমারতো অনন্ত শূন্যতা
এ প্রভাত আমার নয়; নয় এ সূর্যস্নান
অভিশপ্ত আধার নিয়ে আকিবুকি

আমি আর আকাশ

এখনও মেটেনি তৃষ্ণা
দু'চার পেগ আরও হয়ে যাক
মাতাল না হলে জলের অপমান
তুমি যাচ্ছ চলে?
যাও বোতলটা দিয়ে যাও
আচ্ছা পেয়াজ কুচি লাগবে না
শুধু শুধু জলের সাথে রাগ!!!
আকাশ দেখেছ আছ?
ওহো সাত সকালেই তার
সে কি কান্না
... আমার জল নেই
তার গ্লাসের পর গ্লাস
দ্রবীভূত হোক আরও কিছু মেঘ
তারপর দুজনে মিলে কাঁদবো
আমি আর আকাশ...

শান্তি ঘুম ভালবাসা নয়

কোথাও বাজে একলা বাঁশী
দোতারাটা একলাই কাঁদে
এমন সময় আমার ইচ্ছে করে
সব ছেড়ে যেদিকে দু'চোখ যায়
চলে যাই দূরে; দূরে বহুদূরে
রাত শেষে ফোটে প্রভাত
ইচ্ছে করে অনন্তকাল
আটকে রাখি এই আধার
আর টুপ করে ডুবে যাই
অতল কোন দীঘির জলে
যেখানে শুধুই মৌনতা
গভীর থেকে আরও গভীরে
যেখানে খুব গোপনে বাস করে
আমার ভেতরের আমি
দুজনে হাতে হাত রেখে
ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে থাকি
শত শত শতাব্দী
শান্তি ঘুম ভালবাসা নয়
আরও গভীর কিছু
আমি আর আমি দুজন শুধু
শীতল চারপাশ
সদ্যস্নাত শরীরের সুবাস
কচি সবুজ ঘাস হয়ত
হয়ত মাটির ঘর
কিছুই নয় হয়ত শুধুই শূন্যতা
আমি আর আমাকে ঘিরে
মহাকাশ মহাকাল
অনন্তের পথ চলা নয়
পাথরের স্হিরতা
সূর্য নক্ষএ চাঁদ ডুবে যাক; জেগে উঠুক
এসবই নির্থক এমন এক গভীরতা
আমি ডুবে যাই
জনম জনমের তরে
প্রতিদিনের মৃত্যু থেমে যাক
একবার শূন্য হতে চাই
শেষবার বাজী হোক সবটুকু নিয়ে
আমি দাড়িয়ে আছি ধূলোর মাঝে
তুমি যাবে আমার সাথে?

তুমি যত দূরে যাও

তুমি যত দূরে যাও
 পৃথিবীর উপরে নীল আকাশ
 কৃষ্ণ কাল মেঘ
 বুকে তার ঘন বরষা
 বাতাসের ফিসফিসানি
 অসীম সাগর আধার
 মাস্তুলে বাধা অমাবস্যা
 উড়ে যাওয়া শঙ্খচিল
 ছেরা ছেরা দ্বীপ
 ঝাউবন কাশফুল
 বনহংসের বুকে শূন্যতা
 রাখালের বাঁশীতে বিষ
 তুমি যত দূরে যাও
 পায়ের নীচে দূর্বা ঘাস
 ধূলো ধূলো পথ
 পথে পথে নাগলিংগম
 শ্যাওলা দীঘি কলমীলতা
 নির্জন দুপুর গ্রাম
 শূন্যতার কাছাকাছি বসবাস
 তুমি যতদূরে যাও........
শীতার্ত এই আধারে আমি
আত্মহত্যা করি রোজ রাতে
আর প্রতিটি সকাল আসে
আত্মহত্যার আধারে ডুবে যাব বলে

অপূর্ণ আমি

কুয়াশার ঘুম ভেঙ্গে জেগে
ওঠে এক ফালি চাঁদ
কথা ছিল বয়ে চলা জীবনের
নদী বেয়ে হাতে ধরে হাত
শিশিরের বুক চিরে হেসে
ওঠে নক্ষত্র আর তারা
ডাহুকের ডাক শুনে
এক খন্ড মেঘ কেঁদে হয় সারা
রাত ভোর হলে পরে
ঘুম ভাঙ্গে একলা শালিকের
সারা বেলা খুঁজে মরে আপন ছায়া সঙ্গীরে
সূর্যের ঘুম এলে মুখ লুকায়
সমুদ্র উত্তাল করে আশ্রয়
ঝরা পাতা ঝরে যায়
নিঃশব্দে সূর্য বিদায়ের কান্না লুকায়
পাহাড়ের বুকে ঢেউ এলে পর
তৃষ্ণার্ত হয়ে ছুটে চলে
ঝর্না হয়ে ঝরে যায়, ভুলে আপন ঘর
জীবনের রং গুলো মুছে দিয়ে
মিশে যায় সবকিছু হাওয়ায়
পূর্ণতা খুঁজে ফিরি, অপূর্ণ আমি
তোমার চোখের মায়ায়।